Course Content
মানুষের স্নায়ুতন্ত্র (Human Nervous System)
আমাদের শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করা এবং পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলাই হলো স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কাজ। এটি একটি দ্রুততম যোগাযোগ ব্যবস্থা যা বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করে। এই টপিকে আমরা মানুষের স্নায়ুতন্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানব এবং দেখব কীভাবে আমাদের শরীর মুহূর্তের মধ্যে বাহ্যিক উদ্দীপনায় সাড়া দেয় ও ভারসাম্য রক্ষা করে। এই আলোচনার অধীনে আমরা নিউরন, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড), প্রান্তীয় ও স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র এবং প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও প্রতিবর্ত পথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ লেসনগুলো শিখব।
0/7
মানুষের চোখ (Human Eye)
আমাদের চারপাশের দৃশ্যমান জগতকে অনুভব করার প্রধান মাধ্যম হলো চোখ। এই টপিকে আমরা মানুষের চোখের জটিল গঠন এবং এটি কীভাবে আলোকরশ্মিকে গ্রহণ করে মস্তিষ্কে পাঠায়, তা বিস্তারিতভাবে জানব। এই আলোচনার অধীনে আমরা অক্ষিগোলকের গঠন, লেন্সের মাধ্যমে উপযোজন প্রক্রিয়া এবং সাধারণ দৃষ্টির ত্রুটি ও তার প্রতিকার (যেমন—মায়োপিয়া ও হাইপারমেট্রোপিয়া) সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ লেসনগুলো শিখব।
0/4
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি ও হরমোন (Endocrine System)
শরীরের রাসায়নিক সমন্বয়কারী হিসেবে হরমোনের ভূমিকা অপরিসীম। এই টপিকে আমরা বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন এবং আমাদের শরীরের বৃদ্ধি, বিপাক ও জননে তাদের প্রভাব সম্পর্কে জানব। এই আলোচনার অধীনে আমরা পিটুইটারি, থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল, অগ্ন্যাশয়, পাইনিয়াল এবং থাইমাস গ্রন্থির মতো গুরুত্বপূর্ণ লেসনগুলো শিখব।
0/9
উদ্ভিদ হরমোন বা ফাইটোহরমোন (Plant Hormones)
প্রাণীদের মতো স্নায়ুতন্ত্র না থাকলেও উদ্ভিদের জীবনচক্র হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই টপিকে আমরা জানব কীভাবে হরমোন উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং পরিবেশের উদ্দীপনায় সাড়া দিতে সাহায্য করে। এই আলোচনার অধীনে আমরা বৃদ্ধি সহায়ক (যেমন—অক্সিন), বৃদ্ধি রোধক এবং উদ্ভিদের ফুল ফোটা ও অঙ্কুরোদগমে আলো ও তাপের প্রভাব অর্থাৎ ফটোপিরিওডিজম ও ভার্নালাইজেশন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ লেসনগুলো শিখব।
0/5
প্রাণীর চলন ও পেশি (Locomotion & Muscles)
এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করা প্রাণীদের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই টপিকে আমরা বিভিন্ন প্রাণীর বিচিত্র গমন পদ্ধতি এবং গমনে পেশির ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। এই আলোচনার অধীনে আমরা এককোষী প্রাণীদের অ্যামিবয়েড, সিলিয়ারি ও ফ্ল্যাজেলীয় চলন এবং উন্নত প্রাণীদের ক্ষেত্রে পাখির উড্ডয়ন পেশি ও মানুষের গমনে হাড় ও অস্থিসন্ধির ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ লেসনগুলো শিখব।
0/6
Class 10 Life Science Ch 1: জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (A to Z নোটস ও উত্তরপত্র)

নিউরন বা স্নায়ুকোশ (Neuron)


ভূমিকা (Introduction)

  • সংজ্ঞা (Definition): স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক (Structural and functional unit), যা উদ্দীপনা গ্রহণ এবং পরিবহনে সক্ষম, তাকে নিউরন বা স্নায়ুকোশ বলে।

  • উৎপত্তি (Origin): ভ্রূণজ এক্টোডার্ম (Ectoderm) থেকে নিউরনের উৎপত্তি ঘটে।

  • বিভাজনে অক্ষমতা (Inability to Divide): নিউরন বিভাজিত হতে পারে না। এর প্রধান কারণ হলো নিউরনের কোশদেহে অবস্থিত সেন্ট্রোজোম (Centrosome) নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, ফলে কোশ বিভাজনের সময় বেমতন্তু (Spindle fiber) গঠিত হতে পারে না।

একটি আদর্শ বহুমেরু নিউরনের চিত্র যার বিভিন্ন অংশ চিহ্নিত করা আছে (Structure of a Multipolar Neuron)


 

গঠনগত উপাদান (Structural Components)

একটি আদর্শ নিউরন প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত: কোশদেহ এবং প্রবর্ধক

১. কোশদেহ বা সোমা (Cell Body / Soma / Cyton):

এটি নিউরনের মূল দেহ, যা গোলাকার বা তারকাকার হতে পারে।

  • নিউরোপ্লাজম (Neuroplasm): কোশদেহের ভেতরের সাইটোপ্লাজম।

  • নিউক্লিয়াস (Nucleus): একটি বৃহৎ ও গোলাকার নিউক্লিয়াস কেন্দ্রে অবস্থান করে।

  • নিসল দানা (Nissl Granules): নিউরোপ্লাজমে ছড়ানো রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন (RNA ও প্রোটিন সমৃদ্ধ) কণা, যা প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে।

  • নিউরোফাইব্রিল (Neurofibrils): সূক্ষ্ম প্রোটিন তন্তু যা কোশের আকৃতি বজায় রাখে এবং উদ্দীপনা পরিবহনে সহায়তা করে।

২. ডেনড্রন ও ডেনড্রাইট (Dendron & Dendrites):

কোশদেহ থেকে নির্গত শাখা-প্রশাখাযুক্ত ক্ষুদ্র প্রবর্ধকগুলিকে ডেনড্রন বলে এবং এদের ক্ষুদ্রতর শাখাকে ডেনড্রাইট বলে।

  • ভূমিকা (Role): এরা পূর্ববর্তী নিউরন বা রিসেপ্টর থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে কোশদেহে প্রেরণ করে।

৩. অ্যাক্সন (Axon):

কোশদেহ থেকে নির্গত দীর্ঘ, শাখাবিহীন প্রবর্ধক, যা উদ্দীপনাকে কোশদেহ থেকে পরবর্তী কোশে বহন করে।

  • অ্যাক্সোপ্লাজম (Axoplasm): অ্যাক্সনের ভেতরের সাইটোপ্লাজম।

  • অ্যাক্সোলেমা (Axolemma): অ্যাক্সনের নিজস্ব আবরণী।

  • মায়েলিন আবরণী (Myelin Sheath): অ্যাক্সোলেমার বাইরের লিপিড ও প্রোটিন সমৃদ্ধ স্তর। এটি ইনসুলেটর (Insulation) হিসেবে কাজ করে এবং স্নায়ুস্পন্দনের গতি বৃদ্ধি করে (Saltatory conduction)।

  • সোয়ান কোশ (Schwann Cells): প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রে অ্যাক্সনের গায়ে অবস্থিত একপ্রকার নিউরোগ্লিয়া কোশ, যা মায়েলিন আবরণী তৈরি করে।

  • র‍্যানভিয়ারের পর্ব (Nodes of Ranvier): অ্যাক্সনের যে স্থানে মায়েলিন আবরণী থাকে না, সেই সংকুচিত অংশ।

  • প্রান্তবুরুষ ও সাইন্যাপটিক নব (Terminal Arborization & Synaptic Knob): অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তের সূক্ষ্ম শাখাগুলিকে প্রান্তবুরুষ বলে। এর স্ফীত ও গোলাকার অগ্রভাগকে সাইন্যাপটিক নব বলে, যার মধ্যে নিউরোট্রান্সমিটার থাকে।


পার্থক্য: ডেনড্রন বনাম অ্যাক্সন

বৈশিষ্ট্যের ভিত্তি ডেনড্রন (Dendron) অ্যাক্সন (Axon)
আকার ও শাখা শাখা-প্রশাখাযুক্ত এবং ক্ষুদ্র। শাখাবিহীন এবং দীর্ঘ।
নিসল দানা নিউরোপ্লাজমে নিসল দানা উপস্থিত। অ্যাক্সোপ্লাজমে নিসল দানা অনুপস্থিত।
কাজের অভিমুখ উদ্দীপনা কোশদেহে বহন করে নিয়ে আসে। উদ্দীপনা কোশদেহ থেকে দূরে বহন করে।

নিউরনের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Neurons)

ক. কাজের ভিত্তিতে (Based on Function):

  1. সংজ্ঞাবহ নিউরন (Sensory/Afferent Neuron): গ্রাহক (Receptor) থেকে উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বহন করে।

  2. আজ্ঞাবহ নিউরন (Motor/Efferent Neuron): কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে নির্দেশ বা সাড়া কারকে (Effector) বহন করে।

  3. সহযোগী নিউরন (Interneuron/Association): সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ নিউরনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে (সুষুম্নাকাণ্ডে অবস্থিত)।

খ. গঠনের ভিত্তিতে (Based on Structure):

  1. মেরুহীন/একমেরু (Unipolar): কোশদেহ থেকে কেবল একটি প্রবর্ধক (অ্যাক্সন) বের হয় (যেমন: ভ্রূণ অবস্থায়)।

  2. দ্বিমেরু (Bipolar): একটি অ্যাক্সন এবং একটি ডেনড্রন থাকে (যেমন: চোখের রেটিনায়)।

  3. বহুমেরু (Multipolar): একটি অ্যাক্সন এবং অসংখ্য ডেনড্রন থাকে (স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডে বেশি দেখা যায়)।


স্নায়ুসন্নিধি (The Synapse)

দুটি নিউরনের সংযোগস্থলকে স্নায়ুসন্নিধি বা সাইন্যাপস (Synapse) বলে, যেখানে প্রথম নিউরনের অ্যাক্সন শেষ হয় এবং দ্বিতীয় নিউরনের ডেনড্রন শুরু হয়।

  • উদ্দীপনা পরিবহনের পদ্ধতি (Mechanism): পূর্ববর্তী নিউরনের (Presynaptic neuron) অ্যাক্সন প্রান্তে বৈদ্যুতিক সংকেত পৌঁছালে সাইন্যাপটিক নব থেকে কিছু রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়। এদের নিউরোট্রান্সমিটার (Neurotransmitter) বলে (যেমন: অ্যাসিটাইলকোলিন / Acetylcholine)। এই রাসায়নিক পদার্থ সাইন্যাপটিক ক্লেফট (Synaptic cleft) বা ফাঁকা স্থান অতিক্রম করে পরবর্তী নিউরনের (Postsynaptic neuron) ডেনড্রাইটে থাকা রিসেপ্টরে (Receptor) যুক্ত হয়। ফলে সেখানে নতুন বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি হয়।

  • একমুখী প্রবাহ: নিউরোট্রান্সমিটার কেবল অ্যাক্সন প্রান্তেই থাকে, তাই স্নায়ু উদ্দীপনা সর্বদা অ্যাক্সন থেকে ডেনড্রনের দিকেই প্রবাহিত হয় (Unidirectional flow)।


কার্যাবলী (Functions of Neurons)

  1. বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশ থেকে গ্রাহক বা রিসেপ্টরের মাধ্যমে উদ্দীপনা গ্রহণ করা।

  2. সংগৃহীত উদ্দীপনাকে তড়িৎ-রাসায়নিক সংকেত হিসেবে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে (মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড) পরিবহন করা।

  3. মস্তিষ্ক কর্তৃক প্রক্রিয়াজাত নির্দেশাবলি নির্দিষ্ট কারক অঙ্গে (পেশি বা গ্রন্থি) পৌঁছে দেওয়া এবং সমন্বয় (Coordination) বজায় রাখা।

0% Complete