Madhyamik 2026 Life Science PYQ: সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র সমাধান
বিভাগ — ক
১। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যাসহ লেখো:
১.১ নিচের কোন্ জোড়টি সঠিক নয়? [১]
(ক) গুরুমস্তিষ্ক — স্মৃতি
(খ) হাইপোথ্যালামাস — দেহের উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ
(গ) সুষুম্নাশীর্ষক — দেহের ভারসাম্য রক্ষা
(ঘ) পনস — মূত্রত্যাগ নিয়ন্ত্রণ
উত্তর: (গ) সুষুম্নাশীর্ষক — দেহের ভারসাম্য রক্ষা
ব্যাখ্যা: মানবদেহে চলনকালে দেহের ভারসাম্য রক্ষা করার প্রধান কাজটি সম্পন্ন করে লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum) ও কর্ণের অন্তস্থ অঙ্গ, সুষুম্নাশীর্ষক নয়। সুষুম্নাশীর্ষক প্রধানত শ্বাসক্রিয়া, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপের মতো অনৈচ্ছিক কার্য নিয়ন্ত্রণ করে।
১.২ কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী অপটিক, ভেগাস ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু হলো যথাক্রমে — [১]
(ক) মিশ্র, আজ্ঞাবহ, সংজ্ঞাবহ
(খ) সংজ্ঞাবহ, মিশ্র, আজ্ঞাবহ
(গ) আজ্ঞাবহ, সংজ্ঞাবহ, মিশ্র
(ঘ) মিশ্র, সংজ্ঞাবহ, মিশ্র
উত্তর: (খ) সংজ্ঞাবহ, মিশ্র, আজ্ঞাবহ
ব্যাখ্যা: অপটিক স্নায়ু (II) দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে নিয়ে যায় বলে এটি সংজ্ঞাবহ (Sensory) স্নায়ু; ভেগাস স্নায়ু (X) সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ উভয়ের কাজ করায় এটি একটি মিশ্র (Mixed) স্নায়ু; এবং ট্রকলিয়ার স্নায়ু (IV) অক্ষিগোলকের পেশি সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করায় এটি আজ্ঞাবহ (Motor) স্নায়ু।
১.৩ A-স্তম্ভে দেওয়া শব্দগুলির সঙ্গে B-স্তম্ভে দেওয়া বাক্যাংশগুলি মেলাও। B-স্তম্ভে একটি অতিরিক্ত বাক্যাংশ দেওয়া আছে। [১]
| A-স্তম্ভ | B-স্তম্ভ |
| i. ফোটোন্যাস্টিক চলন | a. লজ্জাবতীর পাতা স্পর্শ করলে মুদে যায়। |
| ii. থার্মোন্যাস্টিক চলন | b. সূর্যমুখীর ফুল তীব্র আলোতে ফোটে। |
| iii. সিসমোন্যাস্টিক চলন | c. সূর্যশিশিরের পাতার রোম পোকার দেহের রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে বেঁকে গিয়ে পোকাটিকে আঁকড়ে ধরে। |
| iv. কেমোন্যাস্টিক চলন | d. টিউলিপ ফুল বেশি উষ্ণতায় ফোটে। |
| e. গাছের মূল জলের দিকে এগিয়ে যায়। |
(ক) i–d, ii–a, iii–c, iv–b
(খ) i–c, ii–b, iii–a, iv–e
(গ) i–b, ii–d, iii–a, iv–c
(ঘ) i–e, ii–c, iii–d, iv–b
উত্তর: (গ) i–b, ii–d, iii–a, iv–c
ব্যাখ্যা: আলোর তীব্রতায় সূর্যমুখী ফুল ফোটা হলো ফোটোন্যাস্টিক চলন (i–b); বেশি তাপমাত্রায় টিউলিপ ফুল ফোটা হলো থার্মোন্যাস্টিক চলন (ii–d); স্পর্শের উদ্দীপনায় লজ্জাবতীর পাতা বুজে যাওয়া হলো সিসমোন্যাস্টিক বা স্পর্শব্যাপ্ত চলন (iii–a); এবং প্রোটিনের সংস্পর্শে সূর্যশিশিরের রোম বেঁকে যাওয়া হলো কেমোন্যাস্টিক চলন (iv–c)।
১.৪ নিচের কোন্ ঘটনাটি প্রাণীকোশে মাইটোসিসের টেলোফেজে দেখা যায়? [১]
(ক) নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস অবলুপ্ত হয়
(খ) অপত্য ক্রোমোজোম মেরুর দিকে গমন করে
(গ) নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস পুনরায় তৈরি হয়
(ঘ) ক্রোমোজোমগুলি কোষের বিষুবতলে সজ্জিত হয়
উত্তর: (গ) নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস পুনরায় তৈরি হয়
ব্যাখ্যা: মাইটোসিস বিভাজনের অন্তিম ক্ষণ অর্থাৎ টেলোফেজ দশায় অপত্য ক্রোমোজোমগুলির চারিদিকে নিউক্লিয় পর্দা এবং নিউক্লিওলাস পুনরায় গঠিত হয়। প্রফেজে এরা অবলুপ্ত হয়, মেটাফেজে বিষুবতলে সাজে এবং অ্যানাফেজে বিপরীত মেরুমুখী চলন ঘটে।
১.৫ স্বপরাগযোগ সম্পর্কে নিচের কোন্ বক্তব্যটি সঠিক? [১]
(ক) কোনো বাহকের প্রয়োজন হয় না
(খ) অধিক সংখ্যায় পরাগরেণুর অপচয় ঘটে
(গ) অপত্য জীবে নূতন গুণ দেখা যায়
(ঘ) বেশি হারে বীজ অঙ্কুরিত হয়
উত্তর: (ক) কোনো বাহকের প্রয়োজন হয় না
ব্যাখ্যা: স্বপরাগযোগ একই ফুলের মধ্যে বা একই গাছের দুটি ফুলের মধ্যে ঘটে, তাই এতে কোনো বহিঃস্থ বাহকের (যেমন বায়ু, জল বা কীট-পতঙ্গ) ওপর বাধ্যতামূলক নির্ভরতা থাকে না এবং পরাগরেণুর অপচয়ও খুব কম হয়।
১.৬ টেলোমিয়ার সম্পর্কে নিচের কতগুলি বক্তব্য সঠিক? [১]
-
ক্রোমোজোমের প্রতিটি বাহুর প্রান্তকে টেলোমিয়ার বলা হয়
-
এই অংশে অপর কোনো ক্রোমোজোম যুক্ত হতে পারে না
-
এই অংশে বেমতন্তু যুক্ত হয়
-
এই অংশটি নিউক্লিওলাস গঠনে অংশ নেয়
(ক) 4
(খ) 2
(গ) 3
(ঘ) 1
উত্তর: (খ) 2
ব্যাখ্যা: প্রথম দুটি বক্তব্য সঠিক—টেলোমিয়ার হলো ক্রোমোজোম বাহুর প্রান্তীয় অংশ এবং এটি সংলগ্ন অপর কোনো ক্রোমোজোম খণ্ডকের জোড়া লাগা প্রতিহত করে স্থিরতা রক্ষা করে। বেমতন্তু যুক্ত হয় সেন্ট্রোমিয়ারের কাইনেটোকোরে এবং নিউক্লিওলাস গঠনে অংশ নেয় গৌণ খাঁজ (NOR), টেলোমিয়ার নয়। সুতরাং সঠিক বক্তব্যের সংখ্যা ২টি।
১.৭ মটরগাছের ক্ষেত্রে কোন্টি প্রকট গুণ? [১]
(ক) কাণ্ডের দৈর্ঘ্য — খর্ব
(খ) ফুলের অবস্থান — শীর্ষ
(গ) পরিণত বীজের আকার — গোল
(ঘ) পরিণত বীজপত্রের বর্ণ — সবুজ
উত্তর: (গ) পরিণত বীজের আকার — গোল
ব্যাখ্যা: মেন্ডেলের নির্বাচিত মটরগাছের বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের তালিকায় পরিণত বীজের গোল আকারটি একটি প্রকট (Dominant) বৈশিষ্ট্য (কুঞ্চিত আকার হলো প্রচ্ছন্ন)। অপরপক্ষে খর্ব কাণ্ড, শীর্ষস্থ ফুল ও সবুজ বীজপত্র হলো প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য।
১.৮ সাদা, অমসৃণ রোমের ফেনোটাইপযুক্ত গিনিপিগের একটি সম্ভাব্য জেনোটাইপ হল bbRr। এর অপর সম্ভাব্য জেনোটাইপটি কী? [১]
(ক) BbRr
(খ) Bbrr
(গ) bbrr
(ঘ) bbRR
উত্তর: (ঘ) bbRR
ব্যাখ্যা: গিনিপিগের ক্ষেত্রে সাদা বর্ণ একটি প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য, যার জন্য হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন অ্যালিল ‘bb’ থাকা আবশ্যক। অমসৃণ রোম একটি প্রকট বৈশিষ্ট্য, যার অ্যালিল হলো ‘R’। ফলে অমসৃণ রোমের জন্য জেনোটাইপ Rr অথবা RR হতে পারে। অতএব, সাদা ও অমসৃণ রোমের সম্ভাব্য দুটি জেনোটাইপ হলো bbRr এবং bbRR।
১.৯ নিচের কোন্ বক্তব্যটি সঠিক? [১]
(ক) বর্ণান্ধতা হল একটি X-সংযোজিত প্রকট জিনঘটিত রোগ
(খ) থ্যালাসেমিয়া হল একটি X-সংযোজিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ
(গ) হিমোফিলিয়া হল একটি X-সংযোজিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ
(ঘ) থ্যালাসেমিয়া হল একটি অটোজোমবাহিত প্রকট জিনঘটিত রোগ
উত্তর: (গ) হিমোফিলিয়া হল একটি X-সংযোজিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ
ব্যাখ্যা: হিমোফিলিয়া এবং বর্ণান্ধতা উভয়ই মানুষের X-ক্রোমোজোমবাহিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত বংশগত রোগ। অপরপক্ষে থ্যালাসেমিয়া হলো অটোজোমবাহিত প্রচ্ছন্ন (Recessive) রোগ।
১.১০ নিচে বিবর্তন সম্পর্কিত কয়েকটি ধারণা উল্লেখ করা হলো — [১]
-
ব্যবহারের ও অব্যবহারের সূত্র
-
যোগ্যতমের উদ্বর্তন
-
অর্জিত গুণাবলির বংশানুসরণ
-
প্রাকৃতিক নির্বাচন
-
অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম
-
অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি
এদের মধ্যে ডারউইন তত্ত্বের প্রতিপাদ্য বিষয় কটি?
(ক) 4
(খ) 2
(গ) 6
(ঘ) 3
উত্তর: (ক) 4
ব্যাখ্যা: ডারউইনের তত্ত্বের মূল প্রতিপাদ্যগুলির মধ্যে উল্লিখিত তালিকার ৪টি বিষয় পড়ে—অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি, অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম, যোগ্যতমের উদ্বর্তন এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন। বাকি দুটি (ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র এবং অর্জিত গুণাবলির বংশানুসরণ) হলো ল্যামার্কের তত্ত্বের প্রতিপাদ্য।
১.১১ মিলার ও উরের পরীক্ষায় জীবদেহের কোন্ মূল উপাদানটি তৈরি হয়েছিল? [১]
(ক) ফরম্যালডিহাইড
(খ) হাইড্রোজেন সায়ানাইড
(গ) রাইবোজ শর্করা
(ঘ) অ্যামাইনো অ্যাসিড
উত্তর: (ঘ) অ্যামাইনো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা: স্ট্যানলি মিলার ও হ্যারল্ড উরে তাঁদের আদিম পৃথিবীর পরিবেশ অনুকরণের ঐতিহাসিক পরীক্ষায় মিথেন (CH₄), অ্যামোনিয়া (NH₃), হাইড্রোজেন (H₂) ও জলীয় বাষ্পের বিক্রিয়ায় প্রোটিন গঠনের মূল উপাদান বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড (যেমন গ্লাইসিন, অ্যালানিন, গ্লুটামিক অ্যাসিড ইত্যাদি) সংশ্লেষ করতে সক্ষম হন।
১.১২ ঘোড়ার বিবর্তনের ধারায় আধুনিক ঘোড়ার সামনের আর পিছনের পায়ে কোন্ কোন্ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়? [১]
(ক) খুর নেই, দুটি করে আঙুল
(খ) খুর নেই, তিনটি করে আঙুল
(গ) খুর আছে, তিনটি করে আঙুল
(ঘ) খুর আছে, একটি করে আঙুল
উত্তর: (ঘ) খুর আছে, একটি করে আঙুল
ব্যাখ্যা: আধুনিক ঘোড়ার (Equus) সামনের ও পেছনের উভয় পায়েই আঙুলের সংখ্যা হ্রাস পেয়ে মাত্র একটি শক্তপোক্ত তৃতীয় আঙুলে রূপান্তরিত হয়েছে, যা দৌড়ানোর সুবিধার জন্য একটি চওড়া ও মজবুত খুর দ্বারা আবৃত।
১.১৩ পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া, বেথুয়াডহরি ও সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রকৃতি হলো যথাক্রমে — [১]
(ক) অভয়ারণ্য, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, অভয়ারণ্য
(খ) বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য
(গ) জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ
(ঘ) অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য
উত্তর: (গ) জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ
ব্যাখ্যা: জলদাপাড়া হলো একটি জাতীয় উদ্যান (National Park); নদিয়ার বেথুয়াডহরি হলো একটি অভয়ারণ্য (Sanctuary); এবং সুন্দরবন ইউনেস্কো স্বীকৃত একটি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (Biosphere Reserve)।
১.১৪ হিমালয়ের কস্তুরী মৃগ আর সর্পগন্ধা উদ্ভিদ বিপন্ন হবার কারণ হলো যথাক্রমে — [১]
(ক) বিশ্ব-উষ্ণায়নের কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন, দূষণ
(খ) চোরাশিকার, অতিব্যবহার
(গ) বহিরাগত প্রজাতির অনুপ্রবেশ, বাসস্থান ধ্বংস
(ঘ) বাসস্থান ধ্বংস, চোরাশিকার
উত্তর: (খ) চোরাশিকার, অতিব্যবহার
ব্যাখ্যা: সুগন্ধি কস্তুরীর লোভে চোরাশিকারিদের দ্বারা হিমালয়ের কস্তুরী মৃগ অবাধে নিধন হয় (চোরাশিকার) এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী উপাদান রেসারপিন নিষ্কাশনের জন্য ভেষজ উদ্ভিদ সর্পগন্ধার মাত্রাতিরিক্ত আহরণ ঘটে (অতিব্যবহার)।
১.১৫ মাটি দূষণের একটি ফল হলো — [১]
(ক) বধিরতা
(খ) বিশ্ব-উষ্ণায়ন
(গ) ব্রঙ্কাইটিস
(ঘ) জীব-বিবর্ধন
উত্তর: (ঘ) জীব-বিবর্ধন
ব্যাখ্যা: জমিতে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক কীটনাশক ও ভারী ধাতু (যেমন ডিডিটি) মাটিতে মেশার পর উদ্ভিদ ও খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে ট্রফিক স্তরের উচ্চ ধাপে প্রবেশ করে ঘনত্ব ক্রমাগত বাড়িয়ে তোলে, যাকে জীব-বিবর্ধন (Biomagnification) বলে। বধিরতা শব্দদূষণের, এবং ব্রঙ্কাইটিস বায়ুদূষণের ফল।
বিভাগ — খ
নীচের বাক্যগুলির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও:
২.১ প্রতিবর্ত চাপে ___________ হলো কারক অঙ্গ। [১]
উত্তর: পেশি (বা গ্রন্থি)
ব্যাখ্যা: প্রতিবর্ত চাপের শেষ অংশটি হলো কারক (Effector), যা উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। মানবদেহে পেশি এবং গ্রন্থি কারক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
২.২ ক্রোমাটিন জালিকা ও ক্রোমোজোম হলো ___________ অণুর কুন্ডলীকরণের পৃথক পৃথক অবস্থা। [১]
উত্তর: DNA (বা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)
ব্যাখ্যা: অবিভাজনরত কোশের নিউক্লিয়াসে DNA হিস্টোন প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হালকা কুন্ডলীকৃত অবস্থায় ক্রোমাটিন জালিকা গঠন করে এবং কোশ বিভাজনের সময় এই DNA তন্তুই আরও ঘনীভূত ও অতিরিক্ত কুন্ডলীকৃত হয়ে ক্রোমোজোমে পরিণত হয়।
২.৩ মুক্ত ও যুক্ত দুই প্রকার কানের লতির মধ্যে প্রকট বৈশিষ্টটি হলো ___________ কানের লতি। [১]
উত্তর: মুক্ত
ব্যাখ্যা: মানুষের কানের লতির ক্ষেত্রে মুক্ত কানের লতি হলো একটি অটোজোমবাহিত প্রকট (Dominant) বৈশিষ্ট্য এবং যুক্ত কানের লতি হলো প্রচ্ছন্ন (Recessive) বৈশিষ্ট্য।
২.৪ বিজ্ঞানী ওপারিনের মতে, প্রাণ সৃষ্টির আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল জারণ বা বিজারণ ক্ষমতার বিচারে ___________ প্রকৃতির ছিল। [১]
উত্তর: বিজারণ (বা বিজারক)
ব্যাখ্যা: আদিম পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে মুক্ত অক্সিজেন (O₂) অনুপস্থিত ছিল এবং প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেন, মিথেন ও অ্যামোনিয়া উপস্থিত থাকার কারণে বায়ুমণ্ডলের প্রকৃতি ছিল বিজারক (Reducing)।
২.৫ বিশ্ব-উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিপন্ন হওয়া দক্ষিণমেরু অঞ্চলের একটি পক্ষীজাতীয় প্রজাতি হলো ___________। [১]
উত্তর: পেঙ্গুইন (বা এম্পেরার পেঙ্গুইন / আন্টার্কটিক পেঙ্গুইন)
ব্যাখ্যা: দক্ষিণমেরুর (আন্টার্কটিকা) বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার ফলে পেঙ্গুইনদের বাসস্থান ধ্বংস হচ্ছে এবং খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় এরা বিপন্ন হয়ে পড়ছে।
২.৬ নাইট্রোসোমোনাস ও নাইট্রোব্যাকটর নাইট্রোজেন চক্রের ___________ ধাপে অংশগ্রহণ করে। [১]
উত্তর: নাইট্রিফিকেশন
ব্যাখ্যা: নাইট্রোসোমোনাস জীবাণু অ্যামোনিয়াকে নাইট্রাইটে (NO₂⁻) এবং নাইট্রোব্যাকটর সেই নাইট্রাইটকে নাইট্রেটে (NO₃⁻) রূপান্তরিত করে, যা নাইট্রিফিকেশন ধাপের অন্তর্গত।
নীচের বাক্যগুলি সত্য অথবা মিথ্যা লেখো:
২.৭ কোরয়েড আলোর প্রতিফলন হ্রাস করে রেটিনায় স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠনে সাহায্য করে। [১]
উত্তর: সত্য
ব্যাখ্যা: কোরয়েড (কৃষ্ণমণ্ডল) স্তরে মেলানিন রঞ্জক থাকায় তা অক্ষিগোলকের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত আলোর প্রতিফলন শোষণ করে অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন প্রতিহত করে, যার ফলে রেটিনায় স্পষ্ট ও নিখুঁত প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
২.৮ অযৌন জননে একটিমাত্র জনিতৃ জীব থেকেই অপত্য জীব সৃষ্টি হতে পারে। [১]
উত্তর: সত্য
ব্যাখ্যা: অযৌন জননে কোনো গ্যামেট সৃষ্টি বা নিষেক ছাড়াই একক জনিতৃ কোশের মাইটোসিস বা অ্যামাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে অপত্য জীব সৃষ্টি হয়।
২.৯ একটি সঙ্কর দীর্ঘ মটরগাছের সঙ্গে একটি খর্বকায় মটরগাছের সঙ্করায়নের ফলে উৎপন্ন অপত্যগুলির মধ্যে খর্বকায় মটরগাছের শতকরা পরিমাণ 100। [১]
উত্তর: মিথ্যা
ব্যাখ্যা: সঙ্কর দীর্ঘ (Tt) ও বিশুদ্ধ খর্ব (tt) মটরগাছের ক্রসের (টেস্ট ক্রস) ফলে উৎপন্ন অপত্যদের অনুপাত হয় ১ দীর্ঘ (Tt) : ১ খর্ব (tt)। অর্থাৎ খর্বকায় মটরগাছ উৎপন্ন হয় ৫০% (50%), ১০০% নয়।
২.১০ সমসংস্থ অঙ্গ অভিসারী বিবর্তনকে নির্দেশ করে। [১]
উত্তর: মিথ্যা
ব্যাখ্যা: সমসংস্থ অঙ্গ অপসারী বিবর্তনকে (Divergent Evolution) নির্দেশ করে। অভিসারী বিবর্তনকে নির্দেশ করে সমবৃত্তীয় অঙ্গ।
২.১১ তুষারচিতা সুন্দাল্যান্ড হটস্পটের একটি বিপন্ন প্রাণী। [১]
উত্তর: মিথ্যা
ব্যাখ্যা: তুষারচিতা (Snow Leopard) হিমালয় (Himalaya) জীববৈচিত্র্য হটস্পটের একটি বিপন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী, সুন্দাল্যান্ডের নয়।
২.১২ জিব্বারেলিন মুকুল ও বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে। [১]
উত্তর: সত্য
ব্যাখ্যা: জিব্বারেলিন হরমোন বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে আলফা-অ্যামাইলেজ উৎসেচক সক্রিয় করার মাধ্যমে অঙ্কুরোদগমে এবং অপরিণত মুকুলের বৃদ্ধি ঘটাতে সহায়তা করে।
A-স্তম্ভের শব্দের সঙ্গে B-স্তম্ভের উপযুক্ত শব্দগুলির সমতা বিধান করে উভয় স্তম্ভের ক্রমিক নং উল্লেখসহ জোড়টি পুনরায় লেখো:
A-স্তম্ভ ও B-স্তম্ভের সমতাবিধান: [১ × ৫ = ৫]
-
২.১৩ অ্যাডাক্টার পেশি — (ঙ) ল্যাটিসিমাস ডরসাই
-
২.১৪ মিয়োসিস — (গ) ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা
-
২.১৫ জেনেটিক কাউন্সেলিং — (ক) বংশগত রোগ প্রতিরোধ
-
২.১৬ লাল গ্রন্থি — (ঘ) মাছের পটকায় গ্যাস মুক্ত করা
-
২.১৭ নাইট্রাস অক্সাইড — (খ) গ্রিনহাউস গ্যাস
-
২.১৮ বৃদ্ধির কোশীয় বিভেদন দশা — (চ) কলা ও অঙ্গ গঠন
সম্পূর্ণ মেলানো ছক:
A-স্তম্ভ B-স্তম্ভ ২.১৩ অ্যাডাক্টার পেশি (ঙ) ল্যাটিসিমাস ডরসাই ২.১৪ মিয়োসিস (গ) ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা ২.১৫ জেনেটিক কাউন্সেলিং (ক) বংশগত রোগ প্রতিরোধ ২.১৬ লাল গ্রন্থি (ঘ) মাছের পটকায় গ্যাস মুক্ত করা ২.১৭ নাইট্রাস অক্সাইড (খ) গ্রিনহাউস গ্যাস ২.১৮ বৃদ্ধির কোশীয় বিভেদন দশা (চ) কলা ও অঙ্গ গঠন
(বি.দ্র. B-স্তম্ভের অতিরিক্ত অপশনটি হলো: (ছ) পাইরিফরমিস, যা একটি রোটেটর পেশি।)
একটি শব্দে বা একটি সম্পূর্ণ বাক্যে উত্তর দাও:
২.১৯ বিসদৃশ শব্দটি বেছে লেখো: [১] প্রোল্যাকটিন, ভ্যাসোপ্রেসিন, অ্যাসেটাইলকোলিন, ইনসুলিন
উত্তর: অ্যাসেটাইলকোলিন
ব্যাখ্যা: অ্যাসেটাইলকোলিন হলো একটি রাসায়নিক স্নায়ু-উদ্দীপক বা নিউরোট্রান্সমিটার (Neurotransmitter), পক্ষান্তরে প্রোল্যাকটিন, ভ্যাসোপ্রেসিন ও ইনসুলিন হলো অন্তক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন।
২.২০ নিউরোগ্লিয়ার কোশের একটি কাজ লেখো। [১]
উত্তর: নিউরোগ্লিয়া কোশ নিউরোনগুলিকে যান্ত্রিক সুরক্ষা প্রদান করে, ধারক কোশ হিসেবে কাজ করে এবং স্নায়ুকোশে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে।
২.২১ নিচের প্রথম শব্দজোড়টির সম্পর্ক বুঝে দ্বিতীয় শব্দজোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও : [১] পিউরিন : অ্যাডেনিন :: পিরিমিডিন : ___________
উত্তর: থাইমিন (বা সাইটোসিন / ইউরাসিল)
ব্যাখ্যা: DNA ও RNA-এর নাইট্রোজেনযুক্ত ক্ষারকগুলির মধ্যে অ্যাডেনিন ও গুয়ানিন হলো পিউরিন জাতীয় ক্ষারক; অপরপক্ষে থাইমিন, সাইটোসিন এবং ইউরাসিল হলো পিরিমিডিন জাতীয় ক্ষারক।
২.২২ BBRR ও bbrr জেনোটাইপ সম্পন্ন দুটি জীবের সঙ্কর জননের ক্ষেত্রে F₂ জনুতে সৃষ্ট অপত্যদের মধ্যে BBRR ও BbRr-এর জেনোটাইপ দুটির অনুপাত 1:4 হলে, ওই জনুতে BBRr ও BbRR জেনোটাইপ দুটির অনুপাত কত? [১]
উত্তর: 1:1
ব্যাখ্যা: মেন্ডেলের দ্বিসংকরায়ণ পরীক্ষার F₂ জনুর ১৬টি খোপের চেকারবোর্ডে BBRr জেনোটাইপযুক্ত অপত্যের সংখ্যা থাকে ২টি এবং BbRR জেনোটাইপযুক্ত অপত্যের সংখ্যাও থাকে ২টি। অতএব, BBRr ও BbRR-এর অনুপাত হলো ২:২ বা ১:১ (1:1)।
২.২৩ মটরফুলের কোন্ বৈশিষ্ট্যের জন্য মটরগাছে স্বপরাগযোগ ও প্রয়োজনে ইতর পরাগযোগ ঘটানো যায়? [১]
উত্তর: মটরফুল উভলিঙ্গ (Bisexual) প্রকৃতির হওয়ার জন্য।
ব্যাখ্যা: ফুলটি উভলিঙ্গ হওয়ায় স্বাভাবিক অবস্থায় স্বপরাগযোগ ঘটে, এবং প্রয়োজনে অপরিণত অবস্থায় পুংকেশর কেটে বাদ দিয়ে (ইম্যাসকুলেশন) কৃত্রিমভাবে খুব সহজেই ইতর পরাগযোগ ঘটানো সম্ভব হয়।
২.২৪ একই খাদ্যের জন্য দুইটি ভিন্ন প্রজাতির পাখির মধ্যে জীবন সংগ্রামের একটি উদাহরণ দাও। [১]
উত্তর: একই শস্যদানা বা উচ্ছিষ্ট খাদ্যের জন্য চড়ুই ও পায়রার মধ্যে প্রতিযোগিতা (অথবা, একই মৃত পশুর মাংসের জন্য চিল ও শকুনের মধ্যকার লড়াই)।
২.২৫ নিচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি অপর বিষয়টির অন্তর্গত। সেই বিষয়টি খুঁজে বার করো এবং লেখো — [১] কৃষিক্ষেত্রের বর্জ্য, জীবাণু, জলদূষণ, ইউট্রফিকেশন
উত্তর: জলদূষণ
ব্যাখ্যা: কৃষিক্ষেত্রের বর্জ্য ও ক্ষতিকর জীবাণু হলো জলদূষণের কারণ এবং ইউট্রফিকেশন হলো জলদূষণের অন্যতম ক্ষতিকর ফলাফল। অর্থাৎ বাকি তিনটি বিষয়ই মূলত ‘জলদূষণ’-এর অন্তর্গত।
২.২৬ কীটনাশক ও আগাছানাশক পদার্থ ছাড়া পরিবেশের অপর এমন একটি পদার্থের নাম করো যেটি ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। [১]
উত্তর: অ্যাসবেস্টস (বা বেনজোপাইরিন / তামাকের ধোঁয়া / আর্সেনিক / আলকাতরা)।
ব্যাখ্যা: অ্যাসবেস্টসের সূক্ষ্ম তন্তু শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করলে ম্যালিগন্যান্ট মেসোথেলিয়োমা বা ফুসফুসের ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।
বিভাগ — গ
৩। নিচের ১৭টি প্রশ্ন থেকে যে কোনো ১২টি প্রশ্নের প্রতিটির উত্তর দুই-তিনটি বাক্যে লেখো:
(দ্রষ্টব্য: সম্পূর্ণ সহায়িকা হিসেবে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে নিচে ১৭টি প্রশ্নের প্রতিটিরই পূর্ণাঙ্গ উত্তর দেওয়া হলো।)
৩.১ মস্তিষ্ক-সুষুম্নারসের (CSF) যেকোনো একটি অবস্থান ও একটি কাজ লেখো। [১+১=২]
উত্তর:
-
অবস্থান: মস্তিষ্ক-সুষুম্নারস বা CSF মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল (নিলয়), সুষুম্নাকাণ্ডের কেন্দ্রীয় নালী (সেন্ট্রাল ক্যানাল) এবং সাব-অ্যারাকনয়েড স্থানে অবস্থান করে।
-
কাজ: এটি মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে আকস্মিক যান্ত্রিক আঘাত বা চাপ থেকে রক্ষা করে এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোশগুলিতে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে বর্জ্য পদার্থ অপসারণে সহায়তা করে।
৩.২ অক্ষিগোলকের নিম্নলিখিত দুটি অংশের একটি করে কাজ লেখো: [১+১=২]
-
কর্নিয়া
-
আইরিস
উত্তর:
-
কর্নিয়া: কর্নিয়া চোখের প্রতিসারক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং এর মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি প্রতিসারিত হয়ে চোখের অভ্যন্তরীণ প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করে রেটিনার ওপর কেন্দ্রীভূত হতে সাহায্য করে।
-
আইরিস: আইরিস তারারন্ধ্রকে (Pupil) প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট বা বড় করে চোখের ভেতরে আলো প্রবেশের মাত্রা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
৩.৩ গর্ভাবস্থা সূচিত হলে প্রোজেস্টেরন হরমোন কী কী ভূমিকা পালন করে? [২]
উত্তর:
-
এন্ডোমেট্রিয়াম স্তরের প্রস্তুতি ও রক্ষণাবেক্ষণ: প্রোজেস্টেরন জরায়ুর অন্তঃপ্রাচীরকে (এন্ডোমেট্রিয়াম) পুরু, রক্তজালকসমৃদ্ধ ও গ্রন্থিময় করে ভ্রূণ রোপণের (Implantation) উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে ও গর্ভাবস্থা বজায় রাখে।
-
জরায়ুর সংকোচন প্রতিহত করা: এটি গর্ভাবস্থায় জরায়ু পেশির অনৈচ্ছিক সংকোচন রোধ করে গর্ভপাত (Abortion) প্রতিরোধ করে এবং প্লাসেন্টা (অমরা) গঠনে বিশেষ ভূমিকা নেয়।
৩.৪ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে হাঁচি ও কাশি ঘটার উদ্দেশ্য যথাক্রমে কী কী? [১+১=২]
উত্তর:
-
হাঁচির উদ্দেশ্য: নাসারন্ধ্রে ধূলিকণা, পরাগরেণু বা কোনো ক্ষতিকর বহিরাগত উদ্বায়ী বস্তু প্রবেশ করলে অনৈচ্ছিক প্রতিবর্ত হিসেবে তীব্র বেগে বাতাস নির্গত করে নাসা-গহ্বরকে তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা।
-
কাশির উদ্দেশ্য: শ্বাসনালী, ব্রঙ্কাস বা ট্রাকিয়ায় কোনো অপদ্রব্য, তরল বা শ্লেষ্মা (মিউকাস) আটকে শ্বাসনালী অবরুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হলে শক্তিশালী প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে তা সজোরে ফুসফুস থেকে বাইরে বের করে দিয়ে শ্বাসপথ উন্মুক্ত রাখা।
৩.৫ ফার্ণের জনুঃক্রমে রেণুধর ও লিঙ্গধর জনুর ধারাবাহিক দশাগুলোর নাম সারণির সাহায্যে লেখো। [২]
উত্তর:
ফার্ণের জনুঃক্রমের প্রধান দুটি জনুর সংশ্লিষ্ট দশাগুলির ধারাবাহিক পর্যায়ক্রম নিচে সারণির মাধ্যমে দেখানো হলো:
| জনুর নাম | ক্রোমোজোম স্তর | ধারাবাহিক পর্যায় বা দশাসমূহ |
| রেণুধর জনু (Sporophyte) | ডিপ্লয়েড 2n | রেণুধর উদ্ভিদদেহ → রেণুস্থলী (Sporangium) → রেণু মাতৃকোশ 2n [মিয়োসিস বিভাজন] → অপত্য রেণু n |
| লিঙ্গধর জনু (Gametophyte) | হ্যাপ্লয়েড n | রেণুর অঙ্কুরোদগম → প্রোথ্যালাস (Prothallus) → পুংধানী ও স্ত্রীধানী → শুক্রাণু ও ডিম্বাণু [নিষেক] → জাইগোট 2n |
৩.৬ শব্দচিত্রের মাধ্যমে সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন পদ্ধতিটি উপস্থাপন করো। [২]
উত্তর:
সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক পর্যায়ক্রমিক শব্দচিত্র:
পুংকেশরচক্রের পরাগধানী 2n ও গর্ভকেশরচক্রের ডিম্বাশয় 2n
↓ (মিয়োসিস বিভাজন)
পরাগরেণু n ও ডিম্বকস্থ ভ্রূণস্থলী গঠিত হওয়া n
↓
পরাগযোগ (Pollination) ও গর্ভমুণ্ডে পরাগরেণুর অঙ্কুরোদগম
↓
পরাগনালিকা সৃষ্টি ও পুংগ্যামেট n বাহিত হওয়া
↓
নিষেক বা দ্বি-নিষেক (Fertilisation) [পুংগ্যামেট n + ডিম্বাণু n
↓
নিষিক্ত ডিম্বাণু বা জাইগোট 2n সৃষ্টি
↓
ভ্রূণ 2n ও বীজ গঠন
↓
বীজের অঙ্কুরোদগম এবং নতুন অপত্য সপুষ্পক উদ্ভিদদেহ 2n সৃষ্টি।
৩.৭ ক্রোমোজোমের রাসায়নিক উপাদানগুলি একটি ছকের সাহায্যে দেখাও। [২]
উত্তর:
ক্রোমোজোমের রাসায়নিক উপাদান
|
-----------------------------------------------------------------
| | |
নিউক্লিক অ্যাসিড প্রোটিন (Protein) খনিজ আয়ন ও অন্যান্য
(Nucleic Acid) | (Ca²⁺, Mg²⁺, Fe²⁺)
| -------------------------
|-- DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) | |
|-- RNA (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) হিস্টোন ক্ষারীয় নন-হিস্টোন অম্লীয়
প্রোটিন (আর্জিনিন, প্রোটিন (ট্রিপটোফ্যান,
লাইসিন সমৃদ্ধ) টাইরোসিন সমৃদ্ধ)
৩.৮ বংশগতি সম্পর্কিত নীচের শব্দ দুটি ব্যাখ্যা করো: [১+১=২]
-
লোকাস
-
অ্যালিল
উত্তর:
-
লোকাস (Locus): ক্রোমোজোমের ওপর যে নির্দিষ্ট বিন্দু বা স্থানে একটি নির্দিষ্ট জিন অবস্থান করে, তাকে সেই জিনের লোকাস বলা হয়।
-
অ্যালিল (Allele): সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট লোকাসে অবস্থিত একই জিনের যে-কোনো দুটি রূপভেদ বা বিপরীতধর্মী রূপকে পরস্পরের অ্যালিল বলে (যেমন মটরগাছের দৈর্ঘ্যের জিন T এবং t)।
৩.৯ মানুষের ক্ষেত্রে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা একটি ক্রসের মাধ্যমে মূল্যায়ন করো। [২]
উত্তর:
মানবদেহের কোশে মোট ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। নারীদের ক্ষেত্রে সেক্স ক্রোমোজোম সমপ্রকৃতির (XX), ফলে তাঁরা কেবল একপ্রকার ডিম্বাণু (22A + X) তৈরি করেন। কিন্তু পুরুষদের সেক্স ক্রোমোজোম হেটারোগ্যামেটিক (XY), যার ফলে পুরুষরা দুই প্রকার শুক্রাণু তৈরি করেন—(22A + X) এবং (22A + Y)।
ক্রস:
পিতামাতা (P): পিতা (44A + XY) × মাতা (44A + XX)
↓ ↓
গ্যামেট (G): (22A + X), (22A + Y) (22A + X)
\ /
\-----------------------/
↓
অপত্য (F₁): (44A + XX) [কন্যা সন্তান] অথবা (44A + XY) [পুত্র সন্তান]
(সম্ভাবনা ৫০%) (সম্ভাবনা ৫০%)
সিদ্ধান্ত: ডিম্বাণুটি পিতার X-বহনকারী না Y-বহনকারী শুক্রাণুর দ্বারা নিষিক্ত হচ্ছে—তার ওপরই সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারিত হয়। তাই সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকাই প্রধান।
৩.১০ যদি একজন বর্ণান্ধতার বাহক মহিলা কোনো স্বাভাবিক বর্ণদৃষ্টি সম্পন্ন পুরুষকে বিবাহ করেন এবং তাদের একটি পুত্র ও একটি কন্যা সন্তান হয় তাহলে ওই পুত্র ও কন্যার প্রত্যেকের মধ্যে বর্ণান্ধতা প্রকাশিত হবার সম্ভাবনা কত, একটি ক্রসের মাধ্যমে দেখাও। [২]
উত্তর:
ধরি, স্বাভাবিক দৃষ্টির অ্যালিল = X এবং বর্ণান্ধতার প্রচ্ছন্ন অ্যালিল = Xᶜ।
-
বাহক মহিলার জিনোটাইপ = X Xᶜ
-
স্বাভাবিক পুরুষের জিনোটাইপ = X Y
ক্রস:
| গ্যামেট (স্ত্রী \ পুরুষ) | X (স্বাভাবিক শুক্রাণু) | Y (পুরুষ শুক্রাণু) |
| X (স্বাভাবিক ডিম্বাণু) | XX (স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন কন্যা) | XY (স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন পুত্র) |
| Xᶜ (বর্ণান্ধতার অ্যালিলযুক্ত ডিম্বাণু) | XXᶜ (বাহক স্বাভাবিক কন্যা) | XᶜY (বর্ণান্ধ পুত্র) |
সম্ভাবনা মূল্যায়ন:
-
কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে: জন্ম নেওয়া সকল কন্যা সন্তানই স্বাভাবিক দৃষ্টির হবে (যার মধ্যে ৫০% বাহক ও ৫০% সম্পূর্ণ স্বাভাবিক)। সুতরাং, কন্যাটির মধ্যে বর্ণান্ধতা রোগটি প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা ০% (0%)।
-
পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে: দুটি সম্ভাব্য পুত্রের মধ্যে একটি স্বাভাবিক এবং একটি বর্ণান্ধ হতে পারে। সুতরাং, পুত্রটির বর্ণান্ধতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৫০% (50%)।
৩.১১ লবণ সহনে সুন্দরী গাছের লবণগ্রন্থির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো। [২]
উত্তর:
সুন্দরবন অঞ্চলের অতি লবণাক্ত মাটি ও জল থেকে সুন্দরী উদ্ভিদ জল শোষণের সময় অতিরিক্ত খনিজ লবণও শোষণ করে নেয়। সুন্দরী উদ্ভিদের পাতায় অবস্থিত বিশেষ ‘লবণগ্রন্থি’ (Salt gland) কোশগুলি অভিস্রবণীয় চাপের ভারসাম্য ঠিক রাখতে রক্তসদৃশ বা ঘাম নিঃসরণের মতো অতিরিক্ত ক্ষতিকর লবণ কোশ থেকে নিষ্কাশন করে পাতার বাইরের তলে জমা করে রাখে। পরবর্তীকালে বৃষ্টিতে ধুয়ে বা পুরোনো পাতা মোচনের মাধ্যমে উদ্ভিদ অতিরিক্ত লবণ মুক্ত হয়ে শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে।
৩.১২ ডারউইনের অভিব্যক্তি সংক্রান্ত তত্ত্বের নিম্নলিখিত দুটি প্রতিপাদ্য বিষয় ব্যাখ্যা করো: [১+১=২]
-
অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি
-
প্রাকৃতিক নির্বাচন
উত্তর:
-
অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি: ডারউইনের মতে, প্রতিটি জীব জ্যামিতিক ও গাণিতিক হারে বংশবৃদ্ধি করে বিপুল সংখ্যক অপত্য সৃষ্টি করার সহজাত ক্ষমতা রাখে (যেমন একটি স্যামন মাছ প্রজনন ঋতুতে প্রায় ৩ কোটি ডিম্বাণু পাড়ে)।
-
প্রাকৃতিক নির্বাচন: অস্তিত্বের সংগ্রামে অনুকূল ভেদ বা প্রকরণযুক্ত জীবগুলি প্রকৃতির পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে যোগ্যতম হিসেবে টিকে থাকে এবং প্রতিকূল প্রকরণযুক্ত জীবগুলি কালক্রমে অবলুপ্ত হয়; যোগ্যতমের এই টিকে থাকাকে ডারউইন ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ বলেছেন।
৩.১৩ মৌমাছি তার ওয়াগ্ল নৃত্যের মাধ্যমে কীভাবে মৌচাক ও সূর্যের অবস্থানের সাপেক্ষে খাদ্যের উৎসের অবস্থান প্রকাশ করে? [২]
উত্তর:
খাদ্যের উৎস মৌচাক থেকে ১০০ মিটারের বেশি দূরে থাকলে কর্মী মৌমাছিরা ইংরেজি ‘8’ সংখ্যার মতো বৃত্তাকারে পরিভ্রমণ করে পেটের অংশ বিশেষ ছন্দে দুলিয়ে ওয়াগ্ল নৃত্য (Waggle dance) প্রদর্শন করে।
-
মৌচাকের উল্লম্ব তলের সঙ্গে নৃত্যের সরলরৈখিক গতিপথটি যে কোণ তৈরি করে, তা সরাসরি সূর্যের অবস্থান এবং খাদ্যের উৎসের দিকমুখের মধ্যবর্তী কোণকে নির্দিষ্ট করে নির্দেশ করে।
-
উল্লম্ব তলের ওপরের দিকে মুখ করে নৃত্য করলে খাদ্যের উৎস সূর্যের দিকে এবং নিচের দিকে মুখ করলে সূর্যের বিপরীত দিকে থাকে বলে পরিগণিত হয়।
৩.১৪ মানব স্বাস্থ্য ও জীবজগতের ওপর শব্দদূষণের একটি করে প্রভাব লেখো। [১+১=২]
উত্তর:
-
মানব স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: উচ্চমাত্রার অবিরাম শব্দের ফলে কানের ককলিয়ার সংবেদনশীল রোমকোশ বিনষ্ট হয়ে চিরস্থায়ী বধিরতা (Deafness) সৃষ্টি হয় এবং রক্তচাপ ও মানসিক উত্তেজনা বাড়ে।
-
জীবজগতের ওপর প্রভাব: তীব্র শব্দের কারণে পাখিদের প্রজননকালীন সঙ্গী ডাকার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়, বাদুড় বা সিটাসিয়ান স্তন্যপায়ীদের (যেমন তিমি ও ডলফিন) শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে খাদ্য সন্ধান ও অভিমুখ নির্ণয় বাধাগ্রস্ত হয়।
৩.১৫ “সুন্দরবনের একটি পরিবেশগত সমস্যা হলো দূষণ” — সুন্দরবন অঞ্চলে দূষণের চারটি উৎস চিহ্নিত করো। [২]
উত্তর:
সুন্দরবন অঞ্চলে দূষণ সৃষ্টিকারী চারটি প্রধান উৎস হলো:
-
জলযান ও লঞ্চের নির্গমন: নদীতে চলাচলকারী ট্রলার ও লঞ্চ থেকে পোড়া জ্বালানি তেল, পেট্রোকেমিক্যাল বর্জ্য ও মবিল সরাসরি নদীর জলে মেশা।
-
কৃষিজ রাসায়নিক প্রবাহ: সংলগ্ন চাষের জমি থেকে অতিমাত্রায় ব্যবহৃত কৃত্রিম সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে সুন্দরবনের মোহনা ও খাঁড়ির জলে মিশ্রিত হওয়া।
-
পর্যটন ও পৌর বর্জ্য: পর্যটকদের ফেলা প্লাস্টিক প্যাকেট, অপচনশীল বর্জ্য এবং সংলগ্ন বসতি ও নগরের অপরিশোধিত পয়ঃপ্রণালীর বর্জ্য জল।
-
সামুদ্রিক দূষণ ও তেল নিঃসরণ: বঙ্গোপসাগরের পণ্যবাহী জাহাজ থেকে দুর্ঘটনাজনিত অপরিশোধিত খনিজ তেল ছড়িয়ে পড়া।
৩.১৬ নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হলে যে যে সমস্যা সৃষ্টি হয় তার দুটি উল্লেখ করো। [২]
উত্তর:
-
অ্যাসিড বৃষ্টি ও বায়ুদূষণ: নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহের (যেমন NO, NO₂) অতিরিক্ত নির্গমনের ফলে বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্পের সাথে যুক্ত হয়ে নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি হয়, যা অ্যাসিড বৃষ্টি ঘটিয়ে মাটি ও জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে।
-
ইউট্রফিকেশন: মাটিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেনঘটিত রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে তা ধুয়ে জলাশয়ে জমা হয়, ফলে শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি (Algal bloom) ঘটে এবং জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস পেয়ে জলজ প্রাণীদের মৃত্যু হয়।
৩.১৭ কুমির ও রেড পান্ডা প্রতিটির সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি যথাক্রমে ব্যাখ্যা করো। [১+১=২]
উত্তর:
-
কুমির সংরক্ষণ: কুমিরের ডিম সংগ্রহ করে নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম তাপমাত্রায় হ্যাচারিতে তা দিয়ে অপত্য সাবক ফুটিয়ে বড় করা হয় (Ex-situ সংরক্ষণ) এবং পরবর্তীকালে নির্দিষ্ট বয়সে তাদের প্রাকৃতিক সংরক্ষিত অভয়ারণ্যে বা নদীতে (যেমন সুন্দরবনের ভগবতপুর কুমির প্রকল্প) ছেড়ে দিয়ে বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করা হয়।
-
রেড পান্ডা সংরক্ষণ: পূর্ব হিমালয়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে (যেমন দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক এবং সিঙ্গালীলা জাতীয় উদ্যান) বিশেষ প্রজনন কর্মসূচির মাধ্যমে বন্দিদশায় প্রজনন ঘটিয়ে রেড পান্ডার জনসংখ্যা বাড়ানো হয় এবং তাদের প্রধান খাদ্য বাঁশবন সংরক্ষণ করা হয়।
বিভাগ — ঘ
৪। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর লেখো:
-
প্রথমে একটি তারকাকার কোশদেহ (সাইটন) আঁকো, যার মধ্যস্থলে একটি সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম থাকবে।
-
কোশদেহের চারপাশ থেকে শাখাপ্রশাখা যুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রবর্ধক বা ডেনড্রাইট আঁকো।
-
কোশদেহের একপ্রান্ত থেকে অ্যাক্সন হিলক হয়ে দীর্ঘ অ্যাক্সনটি সরলরেখায় নিচের দিকে প্রসারিত করো।
-
অ্যাক্সনের ওপর নলাকার খণ্ডে খণ্ডে সাজানো মায়োলিন সিদ আঁকো এবং প্রতিটি খণ্ডের মধ্যস্থলে একটি করে সোয়ান কোশের নিউক্লিয়াস দেখাও।
-
দুটি সংলগ্ন মায়োলিন সিদের মধ্যবর্তী ফাঁকা খাঁজগুলিকে র্যাঁভিয়ারের পর্ব হিসেবে নির্দেশ করো।
-
শেষে অ্যাক্সনের দূরবর্তী প্রান্তের প্রান্তবুরুশ (টার্মিনাল বাটন) আঁকো।
-
পেনসিল স্কেচের ডানদিকে সোজা স্কেলিং টেনে পরিষ্কার বাংলা হরফে চিহ্নিত করো।
-
ক্রোমোজোমের দুটি সমান্তরাল বাহু বা ক্রোমাটিড আঁকো যা নির্দিষ্ট খাঁজে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।
-
সেন্ট্রোমিয়ার অঞ্চলে একটি সুস্পষ্ট প্রাথমিক বা মুখ্য খাঁজ আঁকো এবং তার উভয় পাশে প্লেটের মতো কাইনেটোকোর দেখাও।
-
ক্রোমোজোম বাহুর নির্দিষ্ট স্থানে একটি অপ্রাথমিক খাঁজ বা গৌণ খাঁজ আঁকো, যা মূলত নিউক্লিওলার অর্গ্যানাইজার (NOR)।
-
গৌণ খাঁজের পরবর্তী গোলাকার প্রান্তীয় খণ্ডকে স্যাটেলাইট এবং ক্রোমোজোমের চরম প্রান্তদ্বয়কে টেলোমিয়ার হিসেবে নির্দেশ করো।
-
সম্পূর্ণ রেখাচিত্রের ডানদিকে পরিষ্কার বাংলায় লেবেল করো।
-
(ক) ডেনড্রন: পূর্ববর্তী নিউরোন বা গ্রাহক অঙ্গ থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করে কোশদেহে (সাইটনে) প্রেরণ করে।
-
(খ) অ্যাক্সন: কোশদেহ থেকে স্নায়ুস্পন্দন দ্রুত গতিতে পরবর্তী নিউরোন বা কারক অঙ্গে (পেশি বা গ্রন্থিতে) বহন করে নিয়ে যায়।
-
(গ) মায়েলিন শিথ: অ্যাক্সনকে বাহ্যিক আঘাত থেকে রক্ষা করে, বৈদ্যুতিক অন্তরক (Insulator) হিসেবে কাজ করে স্নায়ু আবেগের অপচয় রোধ করে এবং স্নায়ুস্পন্দনের বেগ বৃদ্ধি করে।
-
(ঘ) র্যাঁভিয়ারের পর্ব: এই খাঁজ অঞ্চলে স্নায়ু উদ্দীপনা লাফিয়ে লাফিয়ে পরিবাহিত হয়ে (Saltatory Conduction) অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায়।
-
(ঙ) সোয়ান কোশ: প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রে নিউরোনের অ্যাক্সনের ওপর মায়েলিন শিথ গঠন করে এবং আঘাতপ্রাপ্ত অ্যাক্সনের পুনরুৎপাদনে সহায়তা করে।
-
(ক) ক্রোমাটিড: মেটাফেজ ক্রোমোজোমের অক্ষ বরাবর অবস্থিত দুটি সমদৈর্ঘ্য ও সমবৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কুণ্ডলীকৃত ডিএনএ-প্রোটিন সূত্র, যা সেন্ট্রোমিয়ার অঞ্চলে পরস্পর যুক্ত থাকে।
-
(খ) মুখ্য খাঁজ: এটি ক্রোমোজোমের প্রাথমিক খাঁজ যাতে সেন্ট্রোমিয়ার এবং কাইনেটোকোর প্রোটিন প্লেট অবস্থান করে এবং কোশ বিভাজনে বেমতন্তু যুক্ত হয়।
-
(গ) নিউক্লিওলার অর্গ্যানাইজার: এটি ক্রোমোজোমের বিশেষ গৌণ খাঁজ অঞ্চল, যা ১৮S এবং ২৮S রাইবোজোমাল RNA (rRNA) সংশ্লেষ করে এবং টেলোফেজে নিউক্লিওলাস তৈরি করে।
-
(ঘ) স্যাটেলাইট: ক্রোমোজোমের গৌণ খাঁজের পরবর্তী দূরবর্তী প্রান্তে অবস্থিত গোলকাকার ফোলা অংশযুক্ত ক্রোমোজোম খণ্ডক (এরূপ ক্রোমোজোমকে SAT-ক্রোমোজোম বলে)।
-
(ঙ) টেলোমিয়ার: ক্রোমোজোমের উভয় প্রান্তভাগ যা ক্ষারীয় গুয়ানিন (G)-সমৃদ্ধ নির্দিষ্ট রিপিটেটিভ বেস সিকোয়েন্স দ্বারা গঠিত এবং অপর ক্রোমোজোমের সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রতিরোধ করে স্থায়িত্ব দেয়।
-
বিভাজন (Fission): এই প্রক্রিয়ায় জনিতৃ জীবদেহটি মাইটোসিস বা অ্যামাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে সরলভাবে বিভাজিত হয়ে দুই বা ততোধিক সমান অপত্য সৃষ্টি করে।উদাহরণ: Amoeba দ্বি-বিভাজন পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে।
-
কোরকোদগম বা বাডিং (Budding): জনিতৃ জীবদেহের বহির্ভাগে কোনো কোষীয় অংশ স্ফীত হয়ে কুঁড়ি বা কোরক সৃষ্টি করে, যা পরে জনিতৃ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বতন্ত্র অপত্যে পরিণত হয়।উদাহরণ: ইস্ট (Yeast) এবং হাইড্রা (Hydra)।
-
খণ্ডীভবন (Fragmentation): জনিতৃ বহুকোষী শৈবালের দেহ কোনো যান্ত্রিক আঘাত বা জলস্রোতে খণ্ডে খণ্ডে ভেঙে যায় এবং প্রতিটি খণ্ড মাইটোসিস বিভাজনে বৃদ্ধি পেয়ে নতুন অপত্য জীব গঠন করে।উদাহরণ: স্পাইরোগাইরা (Spirogyra) শৈবাল।
-
রেণু উৎপাদন বা স্পোরুলেশন (Spore Formation): জনিতৃ জীবদেহে স্পোরাঞ্জিয়াম বা রেণুস্থলীতে অসংখ্য এককোষী মসৃণ বা ফ্ল্যাজেলাযুক্ত রেণু উৎপন্ন হয়, যা অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে অপত্য জীব সৃষ্টি করে।উদাহরণ: মিউকর (Mucor), রাইজোপাস (Rhizopus) এবং ফার্ন।
-
পুনরুৎপাদন (Regeneration): জনিতৃ জীবের কোনো বিচ্ছিন্ন বা কর্তিত অংশ থেকে পুনরায় মাইটোসিস কোশ বিভাজনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অপত্য জীবদেহের পুনর্গঠন ঘটে।উদাহরণ: প্ল্যানেরিয়া (Planaria)।
-
সংঘটনের স্থান
-
ক্রোমোজোম বিভাজনের প্রকৃতি
-
উৎপন্ন কোশের সংখ্যা
| পার্থক্যের বিষয় | মাইটোসিস কোশ বিভাজন | মিয়োসিস কোশ বিভাজন |
| ১. সংঘটনের স্থান | প্রধানত জীবের সমস্ত প্রকার দেহমাতৃকোষে (Somatic cells) ঘটে। | জনন মাতৃকোষে (Gamete mother cells) বা রেণু মাতৃকোষে ঘটে। |
| ২. ক্রোমোজোম বিভাজনের প্রকৃতি | ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়ে মাতৃকোষ ও অপত্য কোশে সমসংখ্যক ক্রোমোজোম বজায় রাখে (সমবিভাজন)। | ক্রোমোজোম একবার এবং নিউক্লিয়াস দু-বার বিভাজিত হওয়ায় অপত্য কোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পেয়ে অর্ধেক হয় (হ্রাস বিভাজন)। |
| ৩. উৎপন্ন কোশের সংখ্যা | একটি মাতৃকোষ থেকে ২টি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়। | একটি মাতৃকোষ থেকে ৪টি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়। |
-
পাথরকুচি উদ্ভিদের পাতার কিনারায় অবস্থিত খাঁজগুলিতে বিশেষ ‘পত্রাশয়ী মুকুল’ (Epiphyllous buds) থাকে।
-
পরিণত পাতা মাটিতে খসে পড়লে বা আর্দ্র মাটির সংস্পর্শে এলে ওই খাঁজের মুকুলগুলি থেকে অস্থানিক মূল ও ক্ষুদ্র কাণ্ড নির্গত হয়ে নতুন অপত্য চারাগাছ সৃষ্টি করে।
P জনু: বিশুদ্ধ লাল (RR) × বিশুদ্ধ সাদা (rr)
গ্যামেট: (R) (r)
F₁ জনু: গোলাপি ফুল (Rr)
(স্ব-পরাগযোগ: Rr × Rr)
F₂ চেকারবোর্ড:
R r
+--------------+--------------+
R | RR (লাল) | Rr (গোলাপি) |
+--------------+--------------+
r | Rr (গোলাপি) | rr (সাদা) |
+--------------+--------------+
-
ফেনোটাইপিক অনুপাত: লাল : গোলাপি : সাদা = ১ : ২ : ১
-
জিনোটাইপিক অনুপাত: RR : Rr : rr = ১ : ২ : ১যেহেতু কোনো অ্যালিলই সম্পূর্ণরূপে অন্যটির ওপর প্রকট হতে পারে না, তাই একে অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete Dominance) বলে।
-
ধরি, হিমোফিলিয়ার প্রচ্ছন্ন অ্যালিল = Xʰ এবং স্বাভাবিক অ্যালিল = Xᴴ।
-
হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত মহিলার জিনোটাইপ = XʰXʰ
-
স্বাভাবিক পুরুষের জিনোটাইপ = XᴴY
-
গ্যামেট: মহিলার থেকে কেবল (Xʰ) এবং পুরুষের থেকে (Xᴴ) ও (Y)।
-
পুত্রসন্তান সর্বদা পিতার থেকে Y ক্রোমোজোম এবং মাতার থেকে Xʰ ক্রোমোজোম গ্রহণ করবে।
-
অতএব, সম্ভাব্য সকল পুত্রসন্তানের জিনোটাইপ হবে = XʰY (হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত পুত্র)।
| ক্রমিক | উৎপাদিত ফিনোটাইপ | সংশ্লিষ্ট ফিনোটাইপিক অনুপাত | সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য জিনোটাইপসমূহ | জিনোটাইপিক সংখ্যা |
| ১ | দীর্ঘ ও গোলাকার বীজ | ৯ | TTRR, TTRr, TtRR, TtRr | ১ + ২ + ২ + ৪ = ৯ |
| ২ | দীর্ঘ ও কুঞ্চিত বীজ | ৩ | TTrr, Ttrr | ১ + ২ = ৩ |
| ৩ | খর্ব ও গোলাকার বীজ | ৩ | ttRR, ttRr | ১ + ২ = ৩ |
| ৪ | খর্ব ও কুঞ্চিত বীজ | ১ | ttrr | ১ |
-
ফিনোটাইপিক অনুপাত: দীর্ঘ ও গোল : দীর্ঘ ও কুঞ্চিত : খর্ব ও গোল : খর্ব ও কুঞ্চিত = ৯ : ৩ : ৩ : ১ (9:3:3:1)
-
গরম তরল স্যুপ
-
কোয়াসারভেট
-
পরীক্ষা: বিজ্ঞানী স্ট্যানলি মিলার ও হ্যারল্ড উরে ১৯৫৩ সালে একটি বিশেষ কাচযন্ত্রে আদিম পৃথিবীর বিজারক বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় উপাদান মিথেন (CH₄), অ্যামোনিয়া (NH₃) ও হাইড্রোজেন (H₂) গ্যাস ২ : ২ : ১ অনুপাতে নেন এবং অবিরাম ফুটন্ত জল থেকে জলীয় বাষ্প সরবরাহ করেন। টাংস্টেন ইলেকট্রোডের সাহায্যে প্রায় ৬০,০০০ ভোল্ট বিভবপ্রভেদে বিদ্যুৎস্ফুলিঙ্গ তৈরি করেন এবং কনডেনসারের মাধ্যমে মিশ্রণটি ঘনীভূত ও ঠান্ডা করে সংগ্রহ করেন।
-
তাৎপর্য: এক সপ্তাহ পর বিশ্লেষণে দেখা যায় সরল উপাদানগুলি থেকে জীবনের মূল ভিত্তি বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড (যেমন গ্লাইসিন, অ্যালানিন, অ্যাসপার্টিক অ্যাসিড) এবং বিভিন্ন জৈব অ্যাসিড উৎপন্ন হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে অজৈব পদার্থ থেকেই জৈব-রাসায়নিক বিবর্তনের মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিল।
-
গরম তরল স্যুপ (Hot Dilute Soup): বিজ্ঞানী জে. বি. এস. হ্যালডেনের মতে, আদিম উত্তপ্ত সমুদ্রের জলে বিভিন্ন জৈব যৌগসমূহ (সরল শর্করা, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড ইত্যাদি) অতিবেগুনি রশ্মি ও বিদ্যুতের প্রভাবে ঘনীভূত হয়ে যে জটিল ও পুষ্টিকর জৈব মিশ্রণ তৈরি করেছিল, তাকে ‘হট ডাইলুট স্যুপ’ বা তপ্ত পাতলা ঝোল বলা হয়।
-
কোয়াসারভেট (Coacervate): বিজ্ঞানী ওপারিনের মতে, আদিম সমুদ্রের উত্তপ্ত তরল স্যুপে উপস্থিত প্রোটিন, লিপিড এবং নিউক্লিক অ্যাসিডসমূহ আণবিক আকর্ষণে পুঞ্জীভূত হয়ে দ্বিস্তরীয় জলীয় আবরণযুক্ত যে কোলয়েডীয় কণা সৃষ্টি করেছিল, তাকে কোয়াসারভেট বলে। এটিই ছিল আদিমতম কোশের পূর্বরূপ (প্রোটোবায়োন্ট)।
-
উইপোকা শিকার: শিম্পাঞ্জিরা গাছের সরু ডাল ভেঙে পাতাগুলো ভালো করে ছাড়িয়ে নেয়। এরপর ডালটিকে উইঢিবির গর্তে প্রবেশ করিয়ে দেয়। উইপোকারা ডালে কামড়ে ধরলে সেটিকে ধীরে ধীরে বাইরে টেনে এনে সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে আহার করে।
-
বাদামের খোসা ভাঙা: শক্ত খোসাযুক্ত বাদাম ভাঙার জন্য তারা একটি সমতল শক্ত পাথর বা গাছের গুঁড়িকে নেহাই (Anvil) হিসেবে এবং অপর একটি ভারী ভোঁতা পাথর বা কাঠের টুকরোকে হাতুড়ি (Hammer) হিসেবে ব্যবহার করে দক্ষতার সঙ্গে বাদামের খোসা ভাঙে।
-
প্রকরণ বা ভেদ: ডারউইনের মতে, আদিমকালে জিরাফের পপুলেশনে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের গ্রীবাযুক্ত জিরাফ ছিল—কারও গ্রীবা সামান্য ছোট, কারও মাঝারি এবং কারও গ্রীবা জন্মগতভাবেই কিছুটা লম্বা ছিল।
-
অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম: কালক্রমে ভূমির ঘাস ও ছোট উদ্ভিদের পাতা ফুরিয়ে গেলে উঁচুতে অবস্থিত গাছের পাতা খাওয়ার জন্য জিরাফদের মধ্যে আন্তঃপ্রজাতি খাদ্যসংগ্রাম শুরু হয়।
-
প্রাকৃতিক নির্বাচন ও যোগ্যতমের উদ্বর্তন: এই জীবনসংগ্রামে জন্মগতভাবে লম্বা গ্রীবাযুক্ত জিরাফগুলি সহজেই উঁচু ডালপালার পাতা খেতে পেয়ে টিকে থাকে (যোগ্যতমের উদ্বর্তন) এবং ছোট গ্রীবাযুক্ত জিরাফগুলি খাদ্যসংকটে অবলুপ্ত হয়।
-
নতুন প্রজাতির উৎপত্তি: প্রকৃতি দ্বারা নির্বাচিত লম্বা গ্রীবার অনুকূল প্রকরণটি পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে ক্রমপুঞ্জীভূত হয়ে আজকের লম্বা গ্রীবাযুক্ত আধুনিক জিরাফের সৃষ্টি হয়েছে।
বায়ুমণ্ডলীয় মুক্ত নাইট্রোজেন (N₂)
|
------------------------------------------------------------------------
| (প্রাকৃতিক ও শিল্পজাত সংবন্ধন) | (জীবজ সংবন্ধন)
| [বজ্রপাত, হেবার পদ্ধতি] | [অ্যাজোটোব্যাকটর, রাইজোবিয়াম]
↓ ↓
মাটির নাইট্রেট লবণ (NO₃⁻) <------------------------------------- মাটিতে আবদ্ধ নাইট্রোজেন
| |
| (উদ্ভিদ দ্বারা শোষণ) |
↓ |
উদ্ভিদজ প্রোটিন |
| |
| (খাদ্য গ্রহণ) |
↓ |
প্রাণীজ প্রোটিন |
| |
---------------------------> মৃত জীবদেহ ও রেচন পদার্থ <-----------------
|
| (অ্যামোনিফিকেশন) [ব্যাসিলাস মাইকোইডিস]
↓
অ্যামোনিয়া (NH₃)
|
| (নাইট্রিফিকেশন)
| 1. নাইট্রোসোমোনাস: NH₃ → NO₂⁻ (নাইট্রাইট)
| 2. নাইট্রোব্যাকটর: NO₂⁻ → NO₃⁻ (নাইট্রেট)
↓
মাটির নাইট্রেট লবণ (NO₃⁻)
|
| (ডিনাইট্রিফিকেশন) [সিউডোমোনাস, থিওব্যাসিলাস]
↓
বায়ুমণ্ডলীয় মুক্ত নাইট্রোজেন (N₂)
| দূষকের প্রকার | নাম | প্রধান দুটি উৎস |
| ভাসমান কণা (SPM) | ধূলিকণা, ঝুলকালি (Soot) |
১. কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সিমেন্ট বা পাথরভাঙা কারখানা।
২. ডিজেলচালিত ভারী যানবাহন ও যানবাহনের চাকার ঘর্ষণ।
|
| গ্রিনহাউস গ্যাস (GHG) | কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂), মিথেন (CH₄) |
১. মোটরযান ও কলকারখানায় মাত্রাতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানির দহন (CO₂)।
২. জলাভূমি, ধানক্ষেতের জলমগ্ন জৈব পচন ও গৃহপালিত গবাদিপশুর রোমন্থন (CH₄)।
|
-
প্রাকৃতিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার ও অপচয়: অতিরিক্ত জনসংখ্যার দৈনিক চাহিদা মেটাতে মিষ্টি পানীয় জল, খনিজ তেল ও কয়লার মতো অনবীকরণযোগ্য শক্তি ভাণ্ডার দ্রুত নিঃশেষ হয়ে তীব্র প্রাকৃতিক সম্পদ সংকট ডেকে আনছে।
-
কৃষিজমির সংকোচন ও খাদ্যসংকট: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বসতি, চওড়া রাস্তা ও নগরায়নের জন্য উর্বর কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, যার ফলে কৃষিজমির পরিমাণ কমে গিয়ে ভবিষ্যতে খাদ্যসুরক্ষা বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
-
অরণ্য ধ্বংস ও বাস্তুতন্ত্র বিনষ্টকরণ: নতুন ঘরবাড়ি তৈরি, আসবাবপত্র ও জ্বালানির কাঠের জন্য নির্বিচারে গাছপালা ও বনাঞ্চল ধ্বংস করা হচ্ছে, যার ফলে বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান বিলুপ্ত হচ্ছে ও ভূমিক্ষয় বাড়ছে।
-
পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি: বিশাল জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত আবর্জনা, গৃহস্থালীর অপরিশোধিত পয়ঃপ্রণালী বর্জ্য, প্লাস্টিক এবং অতিরিক্ত যানবাহনের ধোঁয়া জল, মাটি ও বাতাসকে প্রতিনিয়ত বিষাক্ত করে তুলছে।
-
স্বাস্থ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট: ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থার অভাব ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ঘাটতিতে জলবাহিত রোগ (যেমন কলেরা, টাইফয়েড) মহামারী আকারে ছড়াচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তর বিপজ্জনকভাবে নেমে গিয়ে তীব্র পানীয় জলের আকাল দেখা দিচ্ছে।
-
বাসস্থান ধ্বংস
-
চোরাশিকার
-
দূষণ
-
বাসস্থান ধ্বংস: নগরায়ন, বাঁধ নির্মাণ ও বন নিধনের ফলে বন্যজীবেরা প্রাকৃতিক আশ্রয় ও খাদ্য হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে, যার ফলে বহু প্রজাতির সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পেয়ে তারা বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে।
-
চোরাশিকার: অর্থনৈতিক লাভের জন্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বন্যপ্রাণীদের চামড়া, দাঁত, শিং, হাড় ও কস্তুরীর লোভে চোরাশিকারিরা বন্যপ্রাণীদের নির্বিচারে হত্যা করে তাদের পপুলেশন নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে।
-
দূষণ: কীটনাশক, প্লাস্টিক ও কলকারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য নদী, সমুদ্র ও মাটিতে মিশে খাদ্যশৃঙ্খল বিনষ্ট করছে এবং অ্যাসিড বৃষ্টি ও তেল নিঃসরণে হাজার হাজার জলজ ও স্থলজ জীব মারা পড়ছে।
-
স্থানীয় মানুষের অংশীদারিত্ব: বন দপ্তর স্থানীয় আদিবাসী ও বনবাসীদের সঙ্গে যৌথ কমিটি (FPC) গঠন করে অরণ্য সংরক্ষণ ও বনাঞ্চল পুনর্গঠনের গুরুদায়িত্ব ভাগ করে নেয়।
-
চোরাশিকার ও বন ধ্বংস রোধ: স্থানীয় বনবাসীরা বন পাহারার কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকায় বনে চোরাশিকার, অবৈধ কাঠ পাচার ও দাবানলের ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়।
-
বিকল্প জীবিকা ও টেকসই ব্যবহার: বনবাসীরা গাছের কোনো ক্ষতি না করে শালপাতা, মধু, মহুয়া, কেন্দুপাতার মতো অপ্রধান বনজ সম্পদ (NTFP) সংগ্রহের অধিকার পেয়ে স্বাবলম্বী হয় এবং বনের ওপর তাদের আন্তরিক মালিকানাবোধ জীববৈচিত্র্যকে স্থায়ী সুরক্ষা দেয়।
-
বাঘ ও হরিণের ভারসাম্য নষ্ট: চোরাশিকারিদের দ্বারা হরিণ ও বুনো শুয়োর শিকারের ফলে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রথম সারির খাদক কমে যাচ্ছে; খাদ্যের তীব্র সংকটে পড়ে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বাধ্য হয়ে সুন্দরবনের লোকালয়ে ঢুকে মানুষ ও গবাদিপশুর ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে।
-
ম্যানগ্রোভ ধ্বংস ও প্রাথমিক খাদকের সংকট: উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংসের ফলে ম্যানগ্রোভের পাতা ও বর্জ্যভোজী ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী, কাঁকড়া ও ছোট মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এদের ওপর নির্ভরশীল মাংসাশী মাছ ও পাখিদের খাদ্যসংকট তৈরি হচ্ছে।
-
নদীর লবণাক্ততা বৃদ্ধিতে জলজ ভারসাম্যহীনতা: মিষ্টি জলের প্রবাহ কমে মোহনায় মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা বাড়ায় প্ল্যাঙ্কটন ও নির্দিষ্ট কিছু মিষ্টি জলের মাছ বিনষ্ট হচ্ছে, যার সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে নদীর বক, ভোঁদড় ও কুমিরের খাদ্যপ্রাপ্তিতে।
-
কোর অঞ্চল (Core Zone): সম্পূর্ণ আইনত সুরক্ষিত কেন্দ্রীয় অঞ্চল, যেখানে মানুষের কোনোপ্রকার প্রবেশ বা হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
-
বাফার অঞ্চল (Buffer Zone): কোর অঞ্চলের ঠিক বাইরে অবস্থিত সংলগ্ন অঞ্চল, যেখানে পরিবেশের ক্ষতি না করে কেবল বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নিরীক্ষণ ও শিক্ষামূলক কাজের অনুমতি থাকে।
-
ট্রানজিশন অঞ্চল (Transition Zone): সবচেয়ে বাইরের উন্মুক্ত অঞ্চল, যেখানে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় কৃষি, ঐতিহ্যবাহী বসতি ও টেকসই পর্যটনের অনুমতি থাকে।
-
উদাহরণ: সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (পশ্চিমবঙ্গ) বা নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (দক্ষিণ ভারত)।
📌 আরও বিশদ প্রস্তুতি ও স্টাডি রিসোর্স:
📥 সালভিত্তিক মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান প্রশ্নপত্র ডাউনলোড (PDF):
আপনি কি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রতিটি অধ্যায়ের সুনির্দিষ্ট নম্বর বিভাজন (Blueprint), ১০০% কমনযোগ্য চিত্র অঙ্কনের নিয়মাবলী এবং ২০২০ থেকে বর্তমান পর্যন্ত সমস্ত সালের আসল প্রশ্নপত্র একসঙ্গে পিডিএফ আকারে সংরক্ষণ করতে চান?
আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সম্পূর্ণ গাইডলাইনটি পড়ুন:
👉 Madhyamik Life Science Question Paper: সম্পূর্ণ নম্বর বিভাজন, চিত্রাঙ্কন ট্রিকস ও PYQ PDF
(পর্ষদের নির্দেশিকা ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর টিপস অনুযায়ী সাজানো)